Breaking News
Home / SPORTS / তামিম-ঝড়ের পরও এমন হার!
Loading...

তামিম-ঝড়ের পরও এমন হার!

এজবাস্টনে কাল দুটো ঝড় উঠল। প্রথমটা তুললেন তামিম ইকবাল। তাতে বাংলাদেশও উঠে গিয়েছিল রানের পাহাড় চূড়ায়। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ দৃশ্যে আরেকটি ঝড় সেই চূড়া থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলকে ছুড়ে ফেলল মাটিতে। ঝড়টা তুললেন পাকিস্তানের নয় নম্বর ব্যাটসম্যান ফাহিম আশরাফ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ফাহিমের ৩০ বলে অপরাজিত ৬৪ রান কঠিন ম্যাচকে করে দিল সহজ। যে ম্যাচে পাকিস্তানের হারটাই মনে হচ্ছিল অবধারিত, সেই ম্যাচই কিনা তিন বল বাকি থাকতে ২ উইকেটের জয় পেয়ে গেল তারা!

Loading...

ম্যাচের শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৩ রান, হাতে দুই উইকেট। মাশরাফির করা প্রথম বলটাই শর্ট পিচ, পুলে ছক্কা হাঁকালেন ফাহিম। দ্বিতীয় বলে দৌড়ে তিন রান। পরের বলে চার মেরে খেলা শেষ করে দেন হাসান আলী। নবম উইকেটে মাত্র ৪২ বলে ৯৩ রানের জুটি হয়েছে তাঁদের। আসলে ম্যাচ যত শেষের দিক গড়িয়েছে, ততই তা হেলে গেছে পাকিস্তানের দিকে। শেষ ১০ ওভারে চার উইকেটে দরকার ছিল ১০৯ রান। এমনকি ৪৪ ওভার শেষেও ৩৬ বলে ৮২ রান দরকার ছিল, হাতে ছিল মাত্র দুই উইকেট। সম্ভাবনার পাল্লা তখনো বাংলাদেশের দিকে হেলে। পাকিস্তানের জয় সহজ হতে থাকে ৪৫তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের ১৯ রান দেওয়ার পর থেকে। ৪৭তম ওভারে মাশরাফিও দিয়ে ফেলেন ১৬। ফাহিম দুই ছক্কা মেরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়কের ওই ওভারেও।
অথচ বাংলাদেশের রানের পাহাড়ের নিচে পড়ে প্রায় পুরো ইনিংসেই হাঁসফাঁস করেছেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। ৭৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ‘ভূমিধসে’র শিকার তাঁরা। আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন শোয়েব মালিক। মোহাম্মদ হাফিজ আর তাঁর চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসা ৭৯ রান প্রাথমিক ধাক্কা কিছুটা সামলায়। ষষ্ঠ উইকেটে শোয়েব মালিক-ইমাদ ওয়াসিম জুটিতে আসে আরও ৫৯। দলকে ২২৭-এ রেখে মালিকের বিদায় যেন পাকিস্তানকে হারের দিগন্তই দেখাচ্ছিল। কিন্তু ক্রিকেটে যে অনিশ্চয়তাটাই শেষ কথা, সেটা আরেকবার দেখিয়ে দিলেন ২৩ বছর বয়সী ফাহিম।
অথচ এই ম্যাচের নায়ক হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের তামিমের। পাকিস্তানের প্রায় সব বোলারের ওপর দিয়েই বয়ে গেছে তামিম-ঝড়। যদি কেউ সেটা একটু বেশি অনুভব করে থাকেন, তো তিনি জুনায়েদ খান। ৯ ওভারে ৭৩ রানে ৪ উইকেট পাওয়া জুনাইদ এক ওভারেই দিয়েছিলেন ২৫, তিন বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় যার ২১-ই তামিমের ব্যাট থেকে।
দলের ২৭ রানে সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর প্রথমে ইমরুল কায়েস ও পরে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে তামিমই ছিলেন রানের পাহাড় গড়ার আসল কারিগর। দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুলের সঙ্গে ১৪২ ও পরের উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি। ৩৪তম ওভারে তামিম যখন শাদাব খানের বলে জুনায়েদের ক্যাচ হন, বাংলাদেশের স্কোর পেয়ে গেছে বড় রানের ভিত্তি।
রানটা শেষ পর্যন্ত চার শর কাছাকাছি চলে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। কিন্তু মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের থিতু হয়েও বড় ইনিংস এবং বড় জুটি গড়তে না পারার ব্যর্থতায় তা হয়নি। ২১৯ রানের সময় তামিম আউট। সেখান থেকে ১৪২ রানে পড়েছে বাংলাদেশের শেষ ৭ উইকেট। শেষ ৫ ওভারে এসেছে মাত্র ৩৭। এর ২৭-ই হয়েছে ৪৮তম ওভারে মাশরাফি উইকেটে আসার আগে। ১৫ বলে ২৬ করে মোসাদ্দেক ফিরে যাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ বলে মাত্র ১ রান করে ফেরেন মাশরাফি।
প্রিমিয়ার লিগ থেকেই দারুণ ফর্মে তামিম। আয়ারল্যান্ড গিয়েও ধারাবাহিক। এই কদিনে যে ব্যাটের ধার আরও বেড়েছে, সেটারই প্রমাণ পাওয়া গেল কাল। ৯৩ বলে ১০২ রানের ইনিংসে ৪ ছক্কা ও ৯ বাউন্ডারি। পাকিস্তানের কোনো বোলারকেই শান্তি দেননি তিনি।
শুরুটা একটু ধীরে করলেও জুনায়েদকে দিয়েই শুরু তামিম-ঝড়ের। জুনায়েদের ওই ওভারের আগে তামিমের রান ছিল ১৭ বলে ৮। আর ওভার শেষে ২২ বলে ২৯। বলের চেয়ে রানের অঙ্কটা এরপর থেকেই এগিয়ে। ফাহিম আশরাফকে বাউন্ডারি মেরে ফিফটি করেছেন ৩৯ বলে, সেঞ্চুরি এসেছে ৮৮ বলে।
তামিমের জ্বলে ওঠার দিনে আর সবাইকে নিষ্প্রভ লাগে। নয়তো ইমরুল কায়েসের দেওয়া সংগতটাও কম ছিল না! সাব্বির রহমানের পরিবর্তে তিনে নামানো হয় বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে। আয়ারল্যান্ড সফরটা মাঠের বাইরে বসে কাটানো ইমরুল সুযোগ পেয়েই তা কাজে লাগালেন। শাদাবের বলে এলবিডব্লু হওয়ার আগে আট বাউন্ডারিতে করেছেন ৬২ বলে ৬১ রান। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে বাংলাদেশের রান তিন অঙ্ক ছুঁয়েছে তাঁর বাউন্ডারিতেই।
৩৪১ রান করে এমন হার মেনে নেওয়াটা কঠিন। তামিম, ইমরুলের জন্য তো সেটা আরও বেশি।

Loading...

Check Also

ভারত VS শ্রীলঙ্কা

ভারত VS শ্রীলঙ্কা লাইভ খেলা দেখুন এখান থেকে

ভারত VS শ্রীলঙ্কা লাইভ খেলা দেখুন এখান থেকে Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *